৪০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ৩ মে। অধিকাংশ প্রার্থীর জন্য প্রিলিমিনারিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিকল্পনা মেনে এগোলে এই এক মাসেই প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়া যাবে। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে জানাচ্ছেন ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার গাজী মিজানুর রহমান

বিসিএস পরীক্ষা হয় তিন ধাপে—প্রিলিমিনারি, রিটেন ও ভাইভা। এর মধ্যে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ধাপ ‘প্রিলিমিনারি’। কারণ এ ধাপেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। এবারের ৪০তম বিসিএসে এক হাজার ৯০৩ পদের জন্য আবেদন জমা পড়েছে প্রায় সোয়া চার লাখ। এসব প্রার্থী থেকে প্রিলিমিনারিতে বাছাই করা হবে আনুমানিক ১৪-১৫ হাজার। অর্থাৎ প্রথম ধাপেই বড়সংখ্যক প্রার্থী ছিটকে পড়বে। পরিকল্পনা করে না এগোলে এ ধাপে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। পরিকল্পনা, কৌশল ছাড়া দিন-রাত বই নিয়ে পড়ে থাকলেও ফায়দা নেই।

অনেকেই ভাবেন, ‘বিসিএস ক্যাডার হতে গেলে অনেক পড়তে হয়। যেহেতু অন্যদের মতো এত বেশি পড়ার সুযোগ হয় না, সুতরাং আমার পক্ষে বিসিএস ক্যাডার হওয়া সম্ভব হবে না’—এটা ভুল ধারণা। এর মানে হলো—আপনি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই নিজেকে ফেল করিয়ে ফেলেছেন! সবার মধ্যেই একটা ধারণা কমন—বিসিএসে টেকা অনেক কঠিন। অনেক বই দেখতে হয়। বেশি বেশি পড়তে হয়।

বাস্তবতা হলো—কম পড়ে বিসিএস ক্যাডার হয়েছে এমন উদাহরণ যেমন আছে, বেশি পড়ে প্রিলিতেই ঝরে গেছে এমন নজিরও আছে। আসলে বিসিএসের জন্য এত না পড়লেও চলে! পরিকল্পনামাফিক প্রস্তুতির ছক ঠিক করে কিছু টেকনিক ফলো করলেই হয়।

দরকারি টিপস
♦ আগের বছরের প্রশ্নপত্র নিয়ে বসুন। প্রশ্ন ঘাঁটলে তুলনামূলক ‘বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
প্রস্তুতির শুরুতেই এই তিন ধরনের কমন প্রশ্ন বাছাই করুন—
১। যেসব টপিকের ওপর প্রশ্ন প্রিলিমিনারিতে সবচেয়ে বেশি এসেছে।
২। যে প্রশ্নগুলো প্রতিবছর এসেছে।
৩। যেসব প্রশ্ন মাঝেমধ্যে এসেছে।
বাছাই করার পর এগুলো ভালো করে দেখুন। যদি এ রকম প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে, তাহলে যেন ঠিক দিতে পারেন, সেভাবে প্রস্তুতি নিন। এ কাজটি করতে পারলে ধরে নেবেন, প্রিলিমিনারির অর্ধেক প্রস্তুতি শেষ!
♦ যে পড়াগুলো মনে থাকে না কিন্তু পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো বারবার পড়ুন। পড়ার সময় হালকা শব্দ করে পড়তে পারেন, যাতে কান পর্যন্ত শব্দ পৌঁছে। এর পরও যদি মনে না থাকে, তাহলে লিখে লিখে পড়ুন। গুরুত্বপূর্ণ সাল, তারিখ ও অপরিচিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নামের ক্ষেত্রে এ টেকনিক বেশ কার্যকর।
♦ সপ্তাহের এক দিন আগের ছয় দিনের পড়াগুলো রিভিশন দিন। সম্ভব হলে পড়া অংশটুকুর ওপর মডেল টেস্ট দিন। কারো সহযোগিতা নিতে পারলে ভালো হয়। কেউ একজন বই ধরে প্রশ্ন করবে, আপনি না দেখে উত্তর দেবেন।
♦ পড়ার সময় মনোযোগ নষ্ট হয় এমন কিছু করবেন না। যেমন—ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা এ ধরনের কোনো কিছু চালু করে রাখবেন না।
♦ পরিকল্পনামাফিক সঠিক গাইডলাইন অনুযায়ী শুধু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু গুছিয়ে পড়লেই প্রিলিমিনারি টপকানো সম্ভব। কারণ ২০০ নম্বরের এ পরীক্ষায় ১৮০-১৯০ পাওয়ার দরকার নেই, ১২০ পেলেই হলো! ৩৮তম প্রিলিতে ১১০-১১৫ নম্বর পেয়েও অনেকে টিকেছে।
♦ কী কী পড়বেন আর কী কী বাদ দেবেন, এমন বিষয়বস্তু বাছাই করুন। তাহলে পরীক্ষার আগ মুহূর্তে প্রস্তুতি নেওয়াটা সহজ হবে।
♦ অনেকে পরীক্ষার আগে প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় বিষয়বস্তুর ওপর পড়তে গিয়ে এত বেশি চাপ নেয় যে পরে পরীক্ষার হলে গিয়ে কমন প্রশ্নের উত্তরও গুলিয়ে ফেলে। তাই বেশি বেশি পড়তে গিয়ে চাপ নেওয়া যাবে না, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুছিয়ে পড়লেই হবে।